কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এতো আবর্জনা কোথা থেকে এলো?


 বিশ্বের দীর্ঘতম সমূদ্র সৈকত নিয়ে গর্ব করার অধিকার শুধু আমাদেরই রয়েছে । এই সৈকতের সৌন্দর্য এতোই মোহনীয় যা কখনো বর্ণনা করেও শেষ করা সম্ভব নয়, এই সমুদ্রকে নিয়ে কবি লেখে কবিতা, সাহিত্যিক লেখে সাহিত্য, গায়ক করে গান কিন্তু এসকল কিছুর সমন্বয়েও এই সমূদ্রের সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা কিঞ্চিৎ পরিমাণও ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছে বলা যাবে না। প্রকৃতি প্রেমি ছাড়াও সকল শ্রেণীর মানুষ এই সমূসদ্রের টানে কতশত পথ পাড়ি দিয়ে চলে আসে এই অপরূপ সৌন্দর্যকে স্বচক্ষে দেখার তরে। বিশ্বের কাছে কক্সবাজারকে তুলে ধরা ও কক্সবাজারকে আজকের এই আধুনিক কক্সবাজারে রুপান্তর  করার প্রধান নিয়ামক হচ্ছে এই বালিময় সমূদ্র সৈকত। সৃষ্টিকর্তার এই নেয়ামতের সাথে আমরা যেন দিনের পর দিন অন্যায় করে চলেছি, প্রকৃতির সাথে ছিনিমিনি খেলছি, প্রকৃতি একের পর এক সতর্ক বার্তা দিয়ে চলেছে কিন্তু আমরা এর কোনো ধার ধারি না, পৃথিবী যা হবে হোক আমি আছি আমাকে নিয়ে ব্যস্ত, আমার চাই আরাম আয়েশ আর দানবীয় ক্ষমতা এবং এই ক্ষমতার লোভের কাছে পরিবেশ যেন নিরুপায় আর তারই একটি রুপ হল এই সুন্দর সমূদ্র সৈকতে ঝল ঝল করা বালি আবর্জনায় মলিন।

 

 


 

 

আবর্জনার উৎপত্তিঃ

 


আবর্জনার উৎস হিসেবে আমরা যে বিষয়গুলো অধিক মাত্রায় দায়ী তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, তারমধ্যে অন্যতম হল, আমাদের বাসা বাড়ির আবর্জনা, হাট বাজারের আবর্জনা, নৌযানের আবর্জনা ইত্যাদি। নিম্নে উল্লেখযোগ্য কিছু উৎস তুলে ধরা হলঃ

Ø  আমরা কিছু বিষয় কখনোই এড়িয়ে যেতে পারবনা যেমন, আমরা আমাদের ব্যবহার অযোগ্য কাপড়, পানীয় পণ্যের বোতল, গোসলখানার পানি যাওয়ার রাস্তা, প্লাস্টিকের আসবাবপত্র, বিভিন্ন পণ্যের মোড়ক ও মৃত প্রাণীর মরদেহ নির্দিধায় নদী, খাল, ড্রেনে বা পুকুরে নিক্ষেপ করি আর যদি পাশে সমূদ্র থাকে তাহলে একটো স্বাচ্ছন্দেই নিক্ষেপ করি,  আমরা ভাবতেই চাইনা এর ফলে আমরা নিজেদের কতখানি ক্ষতি করছি। এক্ষেত্রে আমাদের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

 

Ø  সমুদ্রে মাছধরা ট্রলার, যাত্রীবাহী ও মালামাল বহনকারী জাহাজ ও অন্যান্য নৌযান ও আবর্জনা উৎপত্তির অন্যতম উৎস।

 

প্বার্শবর্তিদেশ ও বিভিন্ন দিক থেকে আবর্জনার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। আমরা প্রায়ই দেখি আমাদের পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতে এই সমস্যা অনেক বেশী যার কিছু অংশ আমাদেরকেও ভোগ করতে হয়।

 

Ø  বনাঞ্চল বা বাগানের আগাছা আমরা ভালোয় ভালোয় সমুদ্রে নিক্ষেপ করি, কারণ এই আবর্জনা পানির সাথে ভেসে যাবে কিন্তু এটা ভাবি না যে, আমার স্থান থেকে গেলেও অন্য কোনো নতুন স্থানে তা স্তূপ হয়ে যাবে।

 

Ø  ঙ্গোবসাগরের তীরবর্তী দেশ সমূহের মাধ্যমে।

কিভাবে বা কোন মাধ্যমে আবর্জনা সমুদ্রে এলো?

 

এই বিষয় টি নিয়ে আমরা যখন কাজ শুরু করি তখন আমরা কিছু বিষয় খুঁজে পাই তা হলঃ-

১। ড্রেনঃ আমরা আমাদের আবর্জনা সচরাচর ড্রেনে ফেলে অভ্যস্ত, আর ড্রেন হয়ে এই আবর্জনা নদী বা খাল হয়ে যায় সমুদ্রে।

২। ব্রীজ এবং কালভার্টঃ ব্রীজ এবং কালভার্টগুলীর অধিকাংশের আবর্জনা সরাসরি সমুদ্রে চলে যায়।কক্সবাজার সদরে প্রায় ১৩৪ টি ব্রীজ ও কাল্ভার্ট রয়েছে এবং কলাতলি থেকে মেরিন ড্রাইভ হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত যতগুলো কাল্ভার্ট আছে এর সব কটির পানি কোনো প্রকার বাধা ছাড়া সমুদ্রে চলে যায়।

৩। তীরবর্তি মানুষের অসচেতনতাঃ  আমাদের মানসিকতা এমন যে, আমরা যারা নদী, খাল ও সমুদ্রের তীরে বসবাস করি তারা সকলেই বাসার আবর্জনা, টয়লেটের আবর্জনা, কলকারখানার বর্জ, দুষিত পানি, পশুর মৃতদেহসহ সকল প্রকার ময়লা আবর্জনা নদী বা সমুদ্রে নিক্ষেপ করে।

৪। আবর্জনার ডাম্পিং স্টেশনঃ কক্সবাজারের কস্তুরা ঘাট এলাকার বাঁকখালী নদীর পাশে অবস্থিত আবর্জনা ডাম্পিং স্টেশন এর ময়লা বাঁকখালী নদীতে পতিত হয় যা অতি সহজে নদী হয়ে সমুদ্রে যায়।

৪।বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দেশের (ভারত, শ্রীলংকা, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া) আবর্জনাও ভেসে আসতে পারে কিন্তু এটা তেমন যুক্তিযুক্ত না।  

 

যে কারণে এই আবর্জনার স্থুপ

এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে আমরা কিছু বিষয় লক্ষ্য করি তা হচ্ছেঃ

১। পানির উচ্চতা বৃদ্ধিঃ প্রথমত সুপার সাইক্লোন আম্ফানের পর সমুদ্র, নদী-নালা, খালবিলের পানির উচ্চতা প্রায় ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত বেড়ে যায় এবং দীর্ঘদিন যাবত অপরিবর্তিত থাকে, করোনা মহামারীর কারণে এপ্রিল, মে ও জুন মাসে পর্যটক না থাকায় সাগর ও অন্যান্য জলাশয় তেমন পরিষ্কার করা হয়নি। সুতরাং তীরে জমে থাকা আবর্জনা পানি বৃদ্ধির ফলে ঢেউয়ের সাথে তা সমুদ্রে চলে যায়।

 

২। প্রবল বৃষ্টিঃ জুন মাসের শেষ এবং জুলাই মাসের শুরুর দিকে প্রবল বৃষ্টি লক্ষ্য করা যায়, যারফলে আবর্জনার এক বিরাট অংশ সরাসরি নদীতে এবং সাগরে গিয়ে পড়ে। আমরা সকলেই দেখেছি এই বৃষ্টি জুলাই মাসের ৯ তারিখের দিকে স্বাভাবিক হয় এবং ১০ ও ১১তারিখে সমুদ্রে আবর্জনার স্তুপ ভেসে আসে।

 

৩। পৌরসভা কর্তৃক ড্রেন পরিস্কার না করাঃ চলমান বৈশ্বিক মহামারীর কারনে প্রতিবারের ন্যায় এই বর্ষায় পূর্বে শহরের বড় বড় ড্রেন গুলী পরিষ্কার করা সম্ভব হয়ে উঠেনি যার ফলে আবর্জনা গুলী ডাম্পিং স্টেশনে না গিয়ে বৃষ্টির পানির সাথে চল সমুদ্রের দিকে চলে যায়। 

 

৪। ২য় ধাপে আমরা যে বর্জ দেখতে পেয়েছি তা অবশ্যই আমাদের কোনো পাহাড়ি অঞ্চলের, এটা হতে পারে টেকনাফের হোয়াইকং, হতে পারে সেন্টমার্টিন, মহেশখালী, কুতুবদিয়া বা অন্য কোনো এলাকার। 

 

৫। ৩য় ধাপে আমরা যা দেখেছি তা অতি মারাত্নক এবং এটি প্রমান করে যে আমরা কতখানি অসচেতন ও উদাসীন আর তা ছিল পশুর নাড়ি ভুঁড়ি।

আবর্জনার ধরনঃ  



উপরের ছবিগুলী কবিতা চত্বর পয়েন্ট থেকে কলাতলি পয়েন্ট এর দৃশ্য।

 

আবর্জনার মধ্যে ছিল, ডাবের এবং নারিকেলের দ্বিখণ্ডিত অংশ, ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের কাপ, গ্লাস ও প্লেট, ছেড়া কাপড়, প্লাস্টিকের বোতল, মদের ও অন্যান্য কাচের বোতল, ছেড়া জাল, রশি, পলিথিন, প্লাস্টিকের বালতি, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের কাঠ, বাঁশের অবশিষ্টাংশ ও স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ যা আমাদের চার পাশের আবর্জনা হিসেবে দেখা যায়, এর অধিকাংশই আমাদের দেশী পন্য এবং আমাদের নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাছাড়া সমূদ্র সৈকতে পশুর নাড়ি-ভোড়ি পাওয়া যায় যা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার। অনুমান করা যাচ্ছে এই আবর্জনার মধ্যে ৯০ শতাংশ অজৈব এবং এই আবর্জনার মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ দেশীয় পণ্য। 

 

এই আবর্জনার সাথে অনেক ধরনের বিদেশি পন্যও দেখা গেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিদেশি বিভিন্ন ধরনের মদের বোতল, বিদেশি পণ্যের মোড়ক, ছোট ছোট প্লাস্টিকের কণা ও বিভিন্ন ধরনের বিদেশী পণ্যের মোড়ক। কিন্তু এই জিনিসগুলো আমাদের দেশে প্রবেশ করা আশ্চর্য হওয়ার মত কিছু না। সুতরাং আমরা যদি ভাল্ভাবে লক্ষ করি তাহলে এই বর্জের জন্য আমরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী।

 

ক্ষতির ধরন

সমুদ্রের উপর ভিত্তি করে অনেক দেশের অর্থনীতি চলছে, সুতরাং এখান থেকেই বুঝা যায় যে একটি দেশের জন্য সমুদ্র কতটা গুরুত্ব বহন করে, সমুদ্র দূষণের ফলে সমুদ্রের প্রাণীজ এবং অপ্রাণিজ উভয় ধরনের সামুদ্রিক ক্ষতি সাধন হতে পারে। তার মধ্যে বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বা বর্তমানেও হচ্ছে এমন কিছু দিক তুলে ধরা হলঃ

১। সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং সমুদ্রচারী পাখি মারা যাচ্ছে।

২। সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

৩। অনেক মাছ এমন পরিবেশে টিকে থাকতে না পেরে বিলুপ্ত হচ্ছে,

৪। প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

৫। সমুদ্রতলের উদ্ভিদ ধ্বংস হচ্ছে।

৬। ২০১০-১১ অর্থ বছরে যেখানে মাছ আহরন করা হয়েছিল ৫৪.৬ মিলিয়ন টন সেখানে বর্তমানে তা দাড়িয়েছে ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন টন।

৭। মাছের মধ্যে মিলছে বিষাক্ত প্লাস্টিকের অস্থিত্ব।

৮। এসময়ে প্রায় ২২ টি কাছিম, বিভিন্ন ধরনের সাপসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী মারা যায়, সেই সাথে আহত হয় আরো অনেক প্রজাতির জলজ প্রাণী।

৯। সমুদ্রে অক্সিজেনের পরিমান কমে যাওয়া।

১০। নষ্ট হতে পারে অপ্রাণিজ সামুদ্রিক সম্পদ (তেল, গ্যাস, চুনা পাথর ইত্যাদি)

১১। কর্মহীন হতে পারে লাক্ষ লক্ষ মানুষ যাদের জীবিকা সমুদ্রের উপর নির্ভরশীল।

 

 

 

 

আন্তর্জাতিক দূষন ও বঙ্গোপসাগরের ঝুকিঃ

আমরা সকলেই জানি যে, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ সমূদ্র পথে করা হয়, কিন্তু এই সমূদ্রের প্রতি আমরা কেন জানি আমরা মোটেও যত্নবান না।  জাতিসংঘের মতে প্রতি বছর প্রায় ৮ মিলিয়ন প্লাস্টিক সমুদ্রে পতিত হয়, সেই সাথে এই প্লাস্টিক মাছ, সামুদ্রিক পাখি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর দেহে চলে যায়,   যার ফলে ১ মিলিয়ন মাসুদ্রিক পাখি এবং ১ লক্ষ্য স্তন্যপায়ী প্রাণী প্রতি বছর মারা যায়। বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে, সমূদ্রের তলদেশের প্রাণীদের মধ্যেও প্ল্যাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) তথ্য মতে, বিভিন্ন ধরনের কল কারখানা থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় প্লাস্টিকের বর্জ্য ও গাড়ির টায়ার বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় সমুদ্র দূষণের মূল কারণ বলে অক্ষায়িত করেন। সমূদ্র দূষণের প্রায় ৩০ শতাংশের মূল কারণ হল এই প্ল্যাস্টিক বর্জ।

 

আমরা যেন ভুলতে বসেছি যে, আমাদের জীবন রক্ষার যে রক্ষা কবজ অক্সিজেন যা আমরা গ্রহণ করি তার অর্ধেক উৎপাদন হয় সমুদ্র থেকে, অর্থাৎ সমুদ্রের শৈবাল এবং ফিটোপ্লাঙ্কটন নামক এককোষী উদ্ভিদ। সাগর আমাদের আবহাওয়ামন্ডল থেকে পঞ্চাশ গুণ বেশি হারে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস করে থাকে।

 

সমুদ্র দূষণ সমুদ্রের যে প্রান্তেই হোক না কেন তা আস্তে আস্তে সম্পূর্ন সমুদ্রকেই গ্রাস করতে থাকে, সুতরাং আমাদের উচিৎ আমাদের পার্শ্ববর্তি দেশের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করা ও সাম্পাদিত চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা।

 

সম্ভাবনাময় বঙ্গোপসাগর

এ সমূদ্রের সম্ভাবনা বলে শেষ করা যাবে না, কিন্তু আমরা এর কিছু সম্ভাবনার চিত্র এই প্রতিবেদনে নিয়ে এসেছি। আমাদের বঙ্গপসাগরে প্রাণিজ এবং অপ্রাণিজ উভয় ধরনের সম্পদ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ

 

১। ১৭ ধরনের খনিজ বালি, যা পারমাণবিক বোমা তৈরি, পারমাণবিক চুল্লির শক্তির উৎপাদক হিসেবে কাজ করে।

২। আমাদের সমুদ্রে রয়েছে “ক্লে” যা সিমেন্ট শিল্পের কাচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩। রয়েছে ৪৪০ প্রজাতির সামূদ্রিক মাছ।                                                                                     

৪। ৩৩৬ প্রজাতির ঝিনুক এবং শামুক।

৫। ৭ প্রজাতির কাছিম

৬। ৫ প্রজাতির লবস্টার।

৭। ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি,

৮। ৩ প্রজাতির তিমি ও ১০ প্রজাতির ডলফিন।

৯। ২০০ প্রজাতির সি উইড যা এক ধরনের সামূদ্রিক ঘাস এবং

১০। সামুদ্রের তলদেশে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায়না।

 

 

এই আবস্থা থেকে উত্তরণের উপায়

বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের সকলের জন্য খুবই কষ্টকর, এই আবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য আমরা কিছু কাজ করতে পারি যেখানে জনসাধারণ থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চমহল পর্যন্ত সকলের সহযোগীতা কাম্য। নিম্নে আমরা কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।  

১। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বিশেষ করে তীরবর্তি মানুষ, জেলে এবং পর্যটকদের মধ্যে।

২। প্রতিটি ড্রেন, নালার মধ্যে সুইসগেট বা দুই স্থরের বেস্টিনী সংযুক্ত করা যাতে করে আবর্জনাগুলো যেকোনো সময় পরিষ্কার করা সম্ভব হয়।

৩।প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনা, প্লাস্টি্কের একই পণ্য কয়েকবার ব্যবহার করা এবং প্লাস্টিক পণ্যেকে রিসাইক্লিং ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসা।    

৪। সমুদ্রের পার্শবর্তি কৃষিজমিতে কীটনাশক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং এর বিকল্প ব্যবহার করা।

৫। সমুদ্রে আবর্জনা ভাসমান আবস্থায় দেখা গেলে তা দ্রুত আপসারনের ব্যবস্থা করা।

৬। বর্জ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ টীম গঠিন করা ও বর্তমান পৌরসভার কমিটিকে আর গতিশীল করে তুলা।

৭। সমুদ্রে নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর বিশেষ তদারকির ব্যবস্থা করা যাতে করে সমুদ্রের যেকোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসন তাৎক্ষনিক আবগত হতে পারে ও তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে পারে এবং মাছ ধরার ট্রলার, নৌজান ও জাহাজের কর্মকর্তা কর্মচারিদের এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো।

৮। পানি প্রতিরোধ ও দূষণ আইন ১৯৭৪-১৯৯৮(সংশোধিত) ও পানি (প্রতিরোধ ও দূষণ) ১৯৭৭-১৯৯১(সংশোধিত) আইনের কঠোর প্রয়োগে নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আইন অনুসরণ করার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাগিদ দেয়া।

৯। প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট বসিয়ে দূষিত পানিকে পরিশোধন করার ব্যবস্থাও নেয়া যেতে পারে।

১০। এই বর্জকে যদি আমরা জ্বালানি হিসেবে বা অন্য কোনো ভাবে ব্যবহার উপযোগি করতে পারি তাহলে এর পরিধি অনেকাংশে কমে যাবে।

১১। সাময়িকভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা জাল বেষ্টনী পদ্বতি বা নিম্নের ছবিতে যে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা করতে পারি।   

১২। নদী নালা, খাল বিল এর পাশে গড়ে উঠা সকল অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করতে হবে, বাঁকখালীর পাঁড়ে গড়ে উঠা আবর্জনার ডাম্পিং স্টেশন অনতিবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং এর চার পাশে উচু দেয়াল তৈরি করতে হবে।   

 


 

সমুদ্র দূষণ আমাদের কক্সবাজারের জন্য নতুন হলেও অন্যান্য দেশে এটি একধরনের প্রচলিত সমস্যা। আমরা নিজেদের জীবনকে সহজ ও আরামদায়ক করে তুলার জন্য যতোখানি আধুনিকতাকে গ্রহণ করছি তা অনুসারে আমরা পরিবিশের ততখানি যত্ননিচ্ছি  না।যার ফলশ্রুতিতে কিছু দিন পরপর আমাদেরকে বিভিন্ন প্রাকৃতি দুর্যোগের মুখামুখি হতে হয়।আমরা শিকার করি আর নাইকরি আজকের এই হিংস্র প্রকৃতিক দূর্যোগের জন্য দায়ী একমাত্র মানুষ। আমরা সঠিকপথে একদিন হাঁটব কিন্তু হয়ত তখন অনেক দেরী হয়ে যাবে।  হুমকির মুখে পড়বে আমাদের আজকের এই পর্যটন শিল্প আর সমূদ্র নির্ভর ৭০ লক্ষ্য মানুষের জীবিকা। আমরা এমন পরিস্থিতি কখনোই চাইনা, তাই সমূদ্র সৈকতের সাথে সম্পর্কিত সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন সকল পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই আবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য অনিতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তথ্য সংগ্রহঃ

 

*     bdnews24.c0m/26-08-2019

*     http://www.cox’sbazarnews.com/archives/276629.html

*     Saptarshi Dutta, 23-01-2020/banega swasth india

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের পরিচিতি।

দলের পরিচয়

নাম ও পদবি

ছবি

 

 

টীম লিড়ার

(পরিকল্পনা ও গবেষণা)

 

 

মোঃ আরিফ ঊল্লাহ

প্রতিষ্ঠাতা ও চীফ কো-অর্ডিনেটর

স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ

 

সদস্য সচিব

 

পিন্টু মল্লিক

এসোসিয়েট চীফ কো-অর্ডিনেটর

স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ

 

সদস্য

 

ফয়সাল ফাহিম

ড়কুমেন্টেশন কো-অর্ডিনেটর

স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ

 

ধন্যবাদ

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ